Gulabo Sitabo (2020) হিন্দী মুভি রিভিউ


[***স্পয়লার***]
মুভি - Gulabo Sitabo (2020)
আমার রেটিং - ৭/১০
IMDb: 6.8

মির্জা সাহেব। ১৫ বছরের বড় এক মহিলাকে বিয়ে করেছিলেন ঘর জামাই হওয়ার জন্য। কারণ, মেয়ের ছিল বিশাল এক মহল। পুরনো এই মহলবাড়িকে কেন্দ্র করেই পুরো মুভির কাহিনী আর্বতিত হয়েছে। এই মহল পাওয়ার লোভ সামলাতে পারেননি শেষপর্যন্ত। স্ত্রীর নামে জমির দলিল ছিল বলে তার মরার অপেক্ষায় ছিলেন। তবে একটা ব্যাপার আছে, যার মৃত্যু চাইবেন তার আয় আরো বেড়ে যাবে। এমনটাই হয় মুভিতেও। তবুও, জুনিয়র স্বামীর জন্য মহল না দিলেও তার প্রিয় চেয়ারকে তাকে দিয়ে যায় বেগম। শেষ বয়সে হাতখরচ চালাতেই আদিকালের নিখুঁত ডিজাইনের চেয়ারটি তিনি ২৫০ রুপিতে বাজারে বিক্রি করে দেন। তারপর জানেন, সেই চেয়ারের দাম কত ধরা হয় অ্যান্টিক শপে?
১,৩৫,০০০ লাখ রুপি!!
শেষটা পরিচালক এমন দিয়েছেন কারণ, মুভিতে তিনি দুটো বিষয়কে হাইলাইট করেছেন। ১. লোভ এবং ২. অজ্ঞতা।


অমিতাভ বচ্চনের চরিত্রটি সবকিছুতে নিজের লাভ খুঁজে বেড়াতো। সেটা সর্ম্পকে কিছু না জেনেই। সবসময় খালি আমি আর আমার। নিজেকে ছাড়া দুনিয়াতে কাউকে তার চোখেই পড়তো না। মহল যাতে কেউ ভোগ করতে না পারে তাই সন্তানও নেননি। এখন বুঝতেই পেরেছেন তার অবস্থা। মুভির একটা লাইনও বোঝায়, 'টাকাপয়সা দিয়ে মানুষকে মাপা হয়না, মানুষকে বিচার করতে হয় তার শিক্ষা ও বুদ্ধি দিয়ে "। বুড়ো মির্জার লোভের কারণে তৈরি অজ্ঞতার রূপক (Metaphor) হিসেবে শেষে চেয়ারের ব্যাপারটি দেখানো হয়েছে। সে শুধু টাকার জন্য চেয়ারটি নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে দেয়। এখন তার যদি সাধারণ জ্ঞানটাও থাকতো, এত পুরনো একটা জিনিসের বর্তমান বাজারমূল্য তো এক হওয়ার কথা না। তাহলেই সে বুঝেশুঝে সেটা বেচতো। ঠিক একইরকম পড়াশোনা না জানা এক ক্যারেক্টারে দেখা গেছে আয়ুষ্মান খুরানাকে। দিনশেষে সুজিত সরকার এটাই বলতে চেয়েছেন, সাধারণ নূন্যতম শিক্ষার কতটা প্রয়োজন। আপনার জ্ঞানহীনতার সুযোগ নিতে ঘরের বাইরে বাটপারের অভাব নেই। আর অতিলোভ যে সবসময় সর্বনাশই করে সেটা মুভি দেখলেই বুঝে যাবেন।

কাহিনী বেশ ভালো, বিশেষ করে অমিতাভ বচ্চন একাই সব আলো নিজের দিকে টেনে নিয়েছেন। মানেই হবে না সাথে জাতীয় পুরস্কারজয়ী টানা ৯ হিট সিনেমা দেয়া আয়ুষ্মানও রয়েছে। তবে, স্ক্রিনপ্লে একটু স্লো হওয়ায় বিরক্তি আসা স্বাভাবিক। 'Vicky Donor' বা 'Piku' এর মতো না হলেও নিজের মধ্যে ভালোই। তবুও, ইতিহাস গড়ে প্রথম ভারতীয় সিনেমা অনলাইনে (OTT Platform) কোনো ফিচার ফিল্ম হিসেবে মুক্তি পেয়ে নাম তো অর্জন করেই ফেলেছে। বাসার পিচ্চি থেকে সবচেয়ে বয়সী, সবাই মিলে নির্দ্বিধায় মুভিটি দেখতে পারেন।

Post Author: Pranto Debnath

Post a Comment

0 Comments