No Mercy (2010) কোরিয়ান একশন থ্রিলার মুভি রিভিউ - Bsub Available


✓ Movie Name: No Mercy (18+)
✓ Release Date: January 7, 2010
✓ Director: Kim Hyeong-jun
✓ Genre: Drama, Thriller, Crime Fiction
✓ Actor-Actresses: Sol Kyung-gu, Ryoo Seung-bum, Han Hye-jin
✓ Duration: 125 Minutes

Bangla Subtitle Available [in link]
https://subscene.com/subtitles/no-mercy-yongseoneun-eopda/bengali/1141915

আজ দুপুরে হঠাৎ করে সবারই মন খারাপ করে দেয়ার মত একটা খারাপ খবর এল। কি করব ভাবছিলাম। এরপর এই মুভি টা দেখা শুরু করলাম। মাথা টা জাস্ট খারাপ হয়ে আছে। মানে এটা কি ছিল? আমি জানি এই গ্রুপের প্রায় সবারই এই মুভি দেখা। আমি গত ৮/৯ মাস ধরে এই মুভি ল্যাপটপে নিয়ে ঘুরতেসি। দেখব দেখব করে আর দেখা হয়ে উঠে নি। আজ দেখেই ফেললাম। যাক গে মুভি নিয়ে কথা বলি…

“You know what’s harder than to die? It’s to forgive. Because it takes too long time to agonize pain to forgive”

কি কঠিন একটা সত্য কথা দিয়ে মুভি টা শেষ হল। ক্ষমা করা যেমন খুব সোজা তেমন খুব কঠিন। কারোর কাছ থেকে আমরা কষ্ট বা আঘাত পেলে আমরা ক্ষমা করার আগে যে কষ্ট টা পেয়েছি সে কষ্টের স্মৃতি টাকে নিজে নিজে আরো হাজার বার চিন্তা করি। এই চিন্তা করার ফলে সেই কষ্ট টাই আমরা বার বার পেতে থাকি এবং ক্ষমা করার ইচ্ছা টা একদম নষ্ট হয়ে প্রতিশোধ নেয়ার একটা মনোভাব তৈরি হয়। আমি অবশ্য এইদিক থেকে শান্তিতে আছি, প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে আমি নিজে সৃষ্টিকর্তার কাছে ক্ষমা চেয়ে নেই এবং আমি কারোর কারণে কষ্ট পেলে তাকে ক্ষমা করে দেই। আপনারা ও চেষ্টা করে দেখতে পারেন।
মানুষের জীবনে অসহায়ত্ব আমার মনে হয় সবচেয়ে বড় অভিশাপ। এই অভিশাপ যখন আপনার জীবনে আসবে তখন আপনার চিন্তাশক্তি লোপ পাবে, ভাল খারাপের ভেদাভেদ করতে পারবেন না। এই মুভি তে দেখলাম অসহায়ত্ব কিভাবে জীবনের পরিণতি ঘটায় তাও একটা না কয়েকটা।

একজন বাবা সন্তানের জন্য কতটুকু নিচে নামতে পারেন? কারোর পায়ে পড়তে পারেন। নিজের কথা না ভেবে সন্তানের জন্য কতবড় ত্যাগ স্বীকার করতে পারেন। এমনকি আরেকজনের জীবন নষ্ট করতেও হয়ত দ্বিধা বোধ করেন না। অবশ্য করবেন কিভাবে বললাম না অসহায়ত্বের সামনে মানুষের চিন্তাশক্তি কাজ করে না। বিবেকবোধ লোপ পায়। একটা মৃত্যু কতগুলো মানুষের জীবন তোলপাড় করে দিতে পারে। মাঝে মাঝে বেঁচে থাকা কত কঠিন হয়ে পড়ে তা যারা অনেক বড় আঘাত পেয়েছে শুধু তারাই জানে বুঝি। কতকিছু যে উঠে এসেছে এই মুভিতে। কোন টা ছেড়ে কোন টা বলব বুঝতে পারছি না।

কাহিনী সংক্ষেপঃ ডঃ কাং দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের একজন ফরেকসিক প্যাথোলজিস্ট (যিনি লাশ পর্যবেক্ষণ করে মৃত্যুর কারণ খুঁজে বের করেন)। তিনি খুব জলদি চাকরি থেকে অবসর নিবেন। তার মেয়ে ১৩ বছর ধরে অ্যামেরিকা থাকে। মেয়ে ফিরে আসবে এবং অবসরের পর বাবা মেয়ে একসাথে থাকবেন। তার কাধে নতুন একটি মার্ডার কেইসের লাশ আসে। এবং তার চাকরি জীবনের শেষ কেইস হিসেবে তিনি লাশটির ময়নাতদন্ত করেন। যেখানে মেয়ে টিকে ৬ টুকরা করে একটা ঝোপে ফেলে দেয়া হয়েছে। এই কেইসে ডঃ এর এক ছাত্রী মিন সেউ ইয়াং ইনভেস্টিগেটিভ টিমে আছেন। ডিটেকটিভ মিন ডঃ কাং এর পরামর্শে নিজে নিজে নানা রকম অনুসন্ধান করে একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে বের করেন। যার নাম লি সং হো।

এদিকে ডঃ কাং এয়ারপোর্টে যান মেয়েকে আনার জন্য সেখানে একজন তার হাতে কিছু ছবি দেন যে তার মেয়ে কিডন্যাপ হয়েছে। একজন বাবা হিসেবে তিনি মোটামুটি পাগলের মত হয়ে যান। এই ছবি গুলো দেয়ার সময় দাতা কিডন্যাপারের নাম বলে যান। এবং ডঃ কাং সাথে সাথেই তাকে চিনতে পারেন। কে এই কিডন্যাপার? কেন একটা মেয়েকে কিডন্যাপ করা হল? মেয়েটার দোষ কি? একটা মেয়ের লাশ কেন ৬ টুকরা করা হল? কেনই বা মেয়ে টাকে এভাবে খুন করা হল? জানতে মুভি টা দেখুন।

নিজের কিছু কথাঃ মুভি টার শুরুর সিনটা এত সুন্দর। যে কোন সিনেমার ল্যান্ডস্কেপ, সিনেম্যাটগ্রাফি আমাকে খুব টানে। শুরু টা দেখে আমার মন টা জুড়িয়ে গেছে। কিন্তু ইমিডিয়েট পরে যা হল তার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না। এই মুভিতে যারা অভিনয় করেছেন হ্যাটস অফ। অবশ্যই সবাই প্রশংসার দাবীদার। শেষে যখন ডঃ কাং পাগলের মত করছিলেন আমার একটা ন্যানো সেকন্ডের জন্য মনে হয় নি লোকটা অভিনয় করছে। এত টা ন্যাচারাল ছিলেন। পারতপক্ষে এন্টাগনিস্ট আবার ভাবলে এন্টাগনিস্ট না, যে ক্যারেক্টার টি ছিলেন তার প্রতি অসম্ভব রকমের ক্ষোভ জন্মেছে। কিন্তু পরে অবশ্য সে ক্ষোভ এক প্রকার মায়া তে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু তার কাজের জাস্টিফিকেশন নেই আমার কাছে। এটা কোন সমাধান হতে পারে না। এই মুভি দেখে আমার যা মনে হল সেটা হচ্ছে কোন অবস্থাতেই সত্য নিয়ে খেলা উচিৎ না। সেটা কোন অবস্থাতেই না। কারণ এই সত্য কবে, কিভাবে, কোন পরিস্থিতিতে উঠে আসে বলা যায় না। আর ক্ষমা মহৎ গুণ কথাতেই আছে। আমাদের উচিৎ কষ্ট বা আঘাত পেলে সেটা নিয়ে বেশি চিন্তা না করে ভুলে থাকার চেষ্টা করা তাহলেই একমাত্র ক্ষমা করার ধারণা তৈরি হবে। কিন্তু আসলে এই মুভি তে যা হয়েছে এমন কিছু হলে আদৌ ক্ষমা করা সম্ভব কি না আমি ভাবতে পারছি না।

ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি গুছিয়ে লিখতে পারছি না। অনেক কিছু ঘুরছে মাথায়। দেরি না করে মুভি টা দেখে ফেলুন যদি কারোর দেখা না থাকে। সময়ের অপচয় হবে না একটু ও। আর ক্ষমা করতে শিখুন।

Post Author: Kamrun Nahar