The Handmaiden (2016) Bangla Subtitle || মুভি রিভিউ


Bangla Subtitle & Movie Review
মুভির নাম: The Handmaiden (2016)
২০১৬ সালের চলচ্চিত্র
প্রারম্ভিক মুক্তি: ২৫ আগস্ট, ২০১৬ ( রাশিয়া )
পরিচালক: পার্ক চ্যান-উক
অনুষ্ঠান চলার প্রকৃত সময়: ২ ঘন্টা ৪৮ মিনিট
বাজেট: ₩10 billion; (approx. $8.8 million)

Bangla Subtitle Download:

✓হালকা স্পয়লার✓

Movie Review:
"দ্যা হ্যান্ডমেইডেন", ২০১৬ সালে Park Chan-wook কতৃক পরিচালিত দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ইরোটিক সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার যেটি একজন ওয়েলশ লেখিকা সারাহ ওয়াটার্সের বিখ্যাত উপন্যাস "Fingersmith" দ্বারা অনুপ্রাণিত।

এটি তো গেলো প্রাথমিক পরিচিতি.. এখন আসি আমার নিজস্ব বক্তব্যে! আমি বরাবরই কোরিয়ান চলচ্চিত্রগুলোর বেশ অনুরাগী, অন্ধ ভক্ত ও বলতে পারেন। এবং এক্ষেত্রে "দ্যা হ্যান্ডমেইডেন" সম্ভবত আমার দেখা কয়েকটি সেরা কোরিয়ান থ্রিলারের মধ্যে একটি- এটি আমি চোখ বন্ধ করেই বলতে পারি। ব্যাক্তিগতভাবে বলবো এটি কেবলই একটি অদ্ভুত, দুরন্তপনায় পরিপূর্ণ ইরোটিক সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার নয়, বরং এর পিছনে রয়েছে প্রচুর প্রতীকী তাৎপর্য, গোপন অর্থ যা ইরোটিক প্রেমের আদলে নিখুঁতভাবে দেখানো হয়েছে।

যদিওবা এতে প্রচুর সমকামীতা রয়েছে, তবে যাই থাকুক না কেনো এটা উপভোগ করার জন্য আপনাকে অবশ্যই সমকামী হবার প্রয়োজন নেই... বরঞ্চ একটু মাথা খাটালেই এর মূল উপজীব্য বেরিয়ে আসবে আপনাআপনিই!

"দ্যা হ্যান্ডমেইডেন", তিনটি বিচ্ছিন্ন প্লটে বিভক্ত, যখন আপনি যে প্লটে যাবেন মনে হবে এটাই বোধ হয় সত্যি! কিন্তু শেষ প্লটে গিয়ে আপনার মাথা ঘুরে যাবে... মনে হবে এতোক্ষণ যা দেখেছেন সবই একটা ঘোর ছিলো, পরিচালক Park Chan-wook ভালোই খেলেছেন আপনার মস্তিষ্ক নিয়ে!
স্বাভাবিকভাবেই আপনার মনে হবে ২০১৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত "ওল্ডবয়" খ্যাত Park Chan-wook একটি ক্ল্যাসিক তৈরি করেছেন বটে! এবং আপনি যদি আগে তার পরিচালিত কোনো সিনেমা দেখে থাকেন তাহলে বুঝবেন তিনি একটি বিশেষ স্টাইলের জন্য বিখ্যাত, সেই সাথে চমকপ্রদ সিনেমাট্যোগ্রাফি ও উদ্দীপনাপূর্ণ প্লট তো রয়েছেই!
মূলত "দ্যা হ্যান্ডমেইডেন" যে উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে (ফিঙ্গারস্মিথ) সেটি ভিক্টোরিয়ান ইংল্যান্ড আমলের কথা বলে কিন্তু "দ্যা হ্যান্ডমেইডেন"- কে পরিবর্ধিত করে ১৯৩০ দশকের কোরিয়ার প্লটে নির্মাণ করা হয়েছে যখন দেশটি জাপান অধ্যুষিত ছিলো। সিনেমা চলাকালীন এর সাবটাইটেল যেভাবে প্রদর্শিত হয় তাতে করে মূল গল্পের প্লট বোঝা যথেষ্ট সহজতর ছিলো, যেমন- সাবটাইটেল যখন হলুদ হয় তখনই যখন জাপানিজ ভাষায় কথোপকথন চলে, আবার একইভাবে সাবটাইটেল যখন সাদা হয় তখন কোরিয়ান ভাষায় কথোপকথন দেখানো হয়! অনেকটা বুদ্ধিসম্মত উপায়ে পরিবর্তন ও পরিবর্ধন আনা হয়েছে মূল গল্পে।

মূল গল্পের প্রথমাংশ শুরু হয় একটি ঠগবাজ পরিবারকে দিয়ে, যেখানে এক যুবতীর কাহিনি বর্ণনা করা হয়েছে সাবলীলভাবে যে কিনা আরেকজন ঠগবাজকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করতে সাহায্য করার জন্য তার পরিকল্পনামাফিক একজন জাপানিজ ধনী মহিলার পরিচারিকা হিসেবে যোগ দেয়। উল্লেখ্য যে, ওই ঠগবাজ লোকটির উদ্দেশ্যই ছিলো ধনী মহিলাকে বিয়েতে প্ররোচিত করার মাধ্যমে তার সব সম্পত্তি আত্মসাৎ করে তাকে মেন্টালি ডিজ্যাবল দেখিয়ে আশ্রমে পাঠিয়ে তার ভাগ্য চুরি করা। এক্ষেত্রে ঠগবাজ হতদরিদ্র মেয়েটিই পরিকল্পনা অনুযায়ী তার দাবার গুটি হিসেবে কাজ করবে। সে যাই হোক, যে মেয়েটিকে হ্যান্ডমেইডেনের ভূমিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় সে কালক্রমে তার মিস্ট্রেসের প্রেমে পড়ে যায় এবং পুরো বিষয়টিতে তখন জটিলতার সৃষ্টি হয়। আমি এর প্লট সম্পর্কে চেয়ে বেশি আর একটি শব্দও বলবো না কারণ গল্পটি খুবই জটপাকানো, অপ্রত্যাশিতসব টুইস্টে পরিপূর্ণ! তাই মূল গল্পের স্পয়লার দিয়ে পুরো গল্পটির স্বাদ নষ্ট করা যুক্তিযুক্ত হবেনা।

ফিল্মটি অসাধারণ সুন্দরভাবে সমন্বিত মূর্চ্ছনার ন্যায় আপনাকে বিমোহিত করে রাখবে... & it is sometimes said about this film that each frame is like a piece of Art & this is very much case here!
প্লটটি অত্যন্ত জটিল, অযাচিত বাঁকে পরিপূর্ণ তার সাথে চমকপ্রদ অভিনয়, পোশাক ও সেটগুলি এতোটাই দুর্দান্ত ও নিখুঁত যে আপনাকে জাপানিজ অধ্যুষিত সেসময়কার কোরিয়ার স্বাদ এনে দিবে। সেই সাথে চমৎকার সিনেমাট্যোগ্রাফি, ব্যাক গ্রাউন্ড মিউজিক আর মেকিংও দুর্দান্ত যেগুলো হয়তো বলারই প্রয়োজন পড়েনা কারণ আগেও আমরা Park Chan-wook এর অসাধারণ চলচ্চিত্র মেকিং দেখে এসেছি!

তবে আমি আপনাদেরকে সতর্ক করবো এর ন্যুডিটি দৃশ্যের জন্য। সিনেমাটিতে লেসবিয়ান ইরোটিসিজমের অনেক দৃশ্য বর্ধিত করেই দেখানো হয়েছে যা আপনার কাছে বিরক্তিকর মনে হতেই পারে যদিও সেগুলো সবই কাহিনির প্রয়োজনেই তৈরি। যাই হোক, এসব দৃশ্যগুলিও সাবলীলভাবে করা, অশ্লীলভাবে দেখানো হয়নি। শেষের দিকে অবশ্য কিছু ডিস্টার্বিং দৃশ্য দেখানো হয়েছে যার জন্য এটা অবশ্যই ১৮ বছরের নিচে কারো দেখা উচিতই নয়। ফিল্মটির দৈর্ঘ্য যদিও আড়াই ঘন্টা, তবুও এটি সম্মোহিতের মতোই আমায় পুরোপুরি আঁকড়ে রেখেছিলো... বিরক্তির ছিটেফোঁটাও অনুভূত হয়নি একবারের জন্যেও।

আপনি যদি এ্যাডাল্ট প্রকৃতির আর্ট হাউজ ফিল্মপ্রেমী হয়ে থাকেন যেগুলোতে সাধারণত প্রেম, বিশ্বাসঘাতকতা, ধোঁকা, মন্যুষত্বের অন্ধকারতম দিকগুলো ঘুরে দেখায় তবে আমি অবশ্যই "দ্যা হ্যান্ডমেইডেন" - কে রিকমেন্ড করবো! আপনি এখানে হলিউড স্টাইলের এ্যাকশনের স্বাদ একদমই পাবেননা, হলিউড কখনো এই জাতীয় সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার তৈরি করতে পারেনা... আমার জানামতে! আর এজন্যই বোধ হয় চলচ্চিত্রটি কান চলচ্চিত্র উৎসবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে আর আইএমডিবিতে ৮.১ স্কোর অর্জন করেছে!

So guys, get some popcorn and sit in front of the laptop and watch the movie... Just enjoy the main premise of the movie! Hopefully, you won't waste your precious time!

এখানে, আমার পার্সোনাল স্কোর ৯/১০!
Happy Watching.....

Post Author: Shammi Rahman Tithi

Post a Comment

0 Comments